পুরুষ কণ্ঠ শুনলেই ‘আতঙ্কিত’ হয়ে উঠেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই গ্রামের নারীরা

একটি খু'ন পরবর্তী সহিং'সতা ঘিরে ‘আত'ঙ্কের’ সৃষ্টি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজে'লার চরচারতলা গ্রামের পুরুষশূন্য লতিফ গোষ্ঠী ও খন্দকার গোষ্ঠীর শত শত নারীর মধ্যে।। কখনও বাড়িতে হা'মলা, ভাঙচুর, লুটপাট আবার কখনও নারীদের ’শ্লী'লতাহানি। সব মিলিয়ে নাকাল জীবনযাপন করছেন তারা। চারপাশ নীরব নিস্তব্ধ। ফাঁ'কে ফাঁ'কে কয়েকজন নারীর জটলা। পুরুষ কণ্ঠের শব্দ শুনতেই ভীত স'ন্ত্রস্ত হয়ে উঠেন তারা। এই বুঝি এলোরে। এই রকমই উৎকন্ঠা আর আতঙ্ক নিয়ে রাত-দিন কাটছে তাদের।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারিতে পূর্ব-বিরোধের জের ধরে মুন্সি গোষ্ঠী ও লতিফ গোষ্ঠীর মধ্যে সং'ঘর্ষে মুন্সি গোষ্ঠীর উপজে'লার চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ছোট ভাই জামাল মুন্সি নি'হত হয়। এরপর থেকে মুন্সি গোষ্ঠীর অব্যা'হত নৃ'শংসতায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিপক্ষ লতিফ গোষ্ঠীর লোকজনের অ'ভিযোগ। সরেজমিন ওই গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাড়িতেই লুটপাটের চিহ্ন। লুটপাটের সময় আসবাবপত্রের পাশাপাশি জানালার গ্রিল পর্যন্ত খুলে নেওয়া হয়েছে। এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র। লতিফ বাড়ির গৃহবধূ স্বপ্না বেগম বলেন, আজকে তিন মাস ধরে ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছি না। আ'ত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। চলামান মহা'মা'রি করো’নার মধ্যে বাড়ি বাড়িতে পুরুষশূন্য। ঘরে কোনো খাবারও নেই। ঘরের আসবাপত্র সব লুট করে নিয়ে গেছে।

সাংবাদিক দেখে এগিয়ে আসেন বৃ'দ্ধা হালেমা বেগম। চোখে মুখে আত'ঙ্কের ছাপ। কান্নারত কন্ঠেন তিনি বলেন, আমা'র ৩ প্রতিব'ন্ধী র ছেলে। তাদের ঘরগু'লো ভেঙে দিয়েছে। ঘরের সব জিনিস লুট করে নিয়ে গেছে। ভয়ে একাই বাড়িতে আছি। মহা'মা'রি মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। রিনা সুলতানা নামে এক নারী বলেন, আমা'র স্বামী নতুন দোতলা বিল্ডিং করেছে। খু'নের ঘটনার পর থেকেই প্রতিদিনই ভাঙচুর করছে। বিল্ডিংয়ের সব দামি দামি আসবাপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ গু'ড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

লতিফ বাড়ির বাসিন্দা মোবারক মিয়ার অ'ভিযোগ, বর্তমান উপজে'লা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির নেতৃত্বে এসব কাণ্ড হচ্ছে। তার কারণে শত শত মানুষ আজ বাড়ি ছাড়া। কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তার লোকজন। তার ভয়ে কেউ কথা বলছে না। প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। আমর'া চাই যারা অ’পরাধী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। নিরাপ'রাধ মানুষরা যাতে হয়রানি বা মা'মলা হা'মলার শিকার না হয়।

লতিফবাড়ি ও খন্দকার বাড়ির লোকজন অ'ভিযোগ করেন, এখন তাদের জমি থেকে ধানসহ নানা জাতের সবজিও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখন তারা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির বিচার দাবি করেন।

এ বি'ষয়ে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ উপজে'লা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সী বলেন, আমা'র ভাইয়ের খু'নিদের আড়াল করতেই আ'সামিপক্ষ এসব মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে। নিরাপ'রাধ মানুষের বাড়িতে হা'মলা ও ভাঙচুরের বি'ষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো বি'ষয় আমা'র জানা নেই।

জে'লা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, খু'নের ঘটনাটি যেমন অ’পরাধ। তেমনি লুটপাটের ঘটনায়ও জড়িতরা অ’পরাধী। সবাইকে আইনের আত্ততায় আনা হবে।

About admin

Check Also

রিমান্ড শেষে কারাগারে মামুনুল

ছয় মা'মলায় ১৮ দিনের রি'মান্ড শেষে কারা'গারে পাঠানো হয়েছে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে। আজ শনিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *