মামুনুলকে আবার ৫ দিন রিমান্ডে পেল পুলিশ

নাশ'কতার দুই মা'মলায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে আবারও পাঁচ দিনের রি'মান্ডে পেল পুলিশ। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আ'দালত আজ ম'ঙ্গলবার তাঁকে আবার রি'মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

এর আগে মামুনুলকে সাত দিন রি'মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আ'দালতে হাজির করে পুলিশ। আবারও তাঁকে পল্টন থানার দুই মা'মলায় মোট ১৭ দিন রি'মান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আ'দালত তাঁকে এক মা'মলায় তিন দিন এবং আরেক মা'মলায় দুদিন রি'মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

মামুনুল হকের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, সাত দিন রি'মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবারও তাঁকে আ'দালতে হাজির করা হয়। নতুন করে আরও দুই মা'মলায় তাঁর পাঁচ দিন রি'মান্ড মঞ্জুর করেন আ'দালত। এ ছাড়া মামুনুলকে আরও পাঁচ মা'মলায় গ্রে''প্ত ার দেখানো হয়েছে।

এর আগে মামুনুল হককে গত ২৬ এপ্রিল পল্টন ও মতিঝিল থানার দুই মা'মলায় সাত দিন রি'মান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আ'দালত। এ ছাড়াও গত ১৯ এপ্রিল মোহা'ম্ম'দপুর থানার মা'মলায় সাত দিন রি'মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আ'দালত। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

হেফাজতের নেতা মামুনুল হকের বিরু'দ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে অন্তত ২০টি মা'মলা রয়েছে।

মামুনুল হক হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর কমিটিরও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব এবং জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মা'দ্রাসার শিক্ষক।

মামুনুল হক ঢাকায় হেফাজতের গু'রুত্বপূর্ণ নেতাদের অন্যতম। রাজধানীতে হেফাজতের কর্মসূচিতে তিনি দ্রুত জমায়েত করাতে পারেন। উত্তেজক বক্তৃতার জন্য পরিচিত মামুনুল হক সম্প্রতি হেফাজতের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। তবে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীসহ ঘেরাও হওয়ার পর মামুনুল হকের একাধিক বিয়ের খবর বের হয়। একের পর এক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁ'স হওয়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগু'লো জানায়, ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ে রিসোর্টের ঘটনার পরদিন মোহা'ম্ম'দপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মা'দ্রাসায় খেলাফত মজলিসের নেতারা জরুরি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মামুনুল হক উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাঁকে সাংগঠনিক কোনো কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ বক্তব্য ও স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এত দিন তিনি মা'দ্রাসাতেই অবস্থান করে আসছিলেন।

মামুনুলের বিরু'দ্ধে যেসব মা'মলা
তেজগাঁও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৭ মা'র্চ মোহা'ম্ম'দপুর থানায় হওয়া মা'মলায় মামুনুল হক ৭ নম্বর আ'সামি। মা'মলার প্রাথমিক তথ্যবিবরণীতে তাঁর বাবার নাম ও ঠিকানা অজ্ঞাত লেখা আছে। মোহা'ম্ম'দপুরের চান মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দা জি এম আলমগীর শাহীন বাদী হয়ে মা'মলাটি করেছিলেন। তিনি আ'সামিদের বিরু'দ্ধে এলোপাতাড়ি মা'রধর, হ'ত্যার উদ্দেশ্যে আঘা'ত করে গু'রুতর জ'খম, চুরি, হু’মকি দেওয়া, ধ'র্মীয় কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি ও প্ররোচনা দেওয়ার অ'ভিযোগ এনেছেন। একটি মুঠোফোন, ৭ হাজার টাকা, ২০০ ডলার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ড চুরি হয়েছে বলে মা'মলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর র'শিদ বলেন, মা'মলাটির ত'দন্ত তাঁরা করছিলেন। ত'দন্তে মামুনুল হকের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পরই তাঁকে গ্রে''প্ত ার করা হয়েছে।

ডিএমপি সদর দ'প্ত রের একটি সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, ডিবির মতিঝিল বিভাগে ত'দন্তাধীন আট'টি মা'মলা, লালবাগ বিভাগে ত'দন্তাধীন দুটি মা'মলা এবং তেজগাঁও বিভাগে ত'দন্তাধীন একটি মা'মলার এজাহারভুক্ত আ'সামি মামুনুল হক।

এ ছাড়া মতিঝিল থানায় ত'দন্তাধীন একটি এবং পল্টন থানায় ত'দন্তাধীন চারটি মা'মলায় তাঁর নাম রয়েছে। এই ১৬ মা'মলার মধ্যে ১৫টি মা'মলাই হয়েছে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের পর। এসব মা'মলার বাদী পুলিশ। ঢাকায় মামুনুল হকের বিরু'দ্ধে সর্বশেষ মা'মলা হয় ৫ এপ্রিল। গত ২৬ মা'র্চ বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমা'র নামাজের পর সং'ঘর্ষের ঘটনায় এ মা'মলা করেছেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) উপদ'প্ত র সম্পাদক খন্দকার আরিফ উজ জামান। মামুনুল হক এ মা'মলার ১ নম্বর আ'সামি।

About admin

Check Also

রিমান্ড শেষে কারাগারে মামুনুল

ছয় মা'মলায় ১৮ দিনের রি'মান্ড শেষে কারা'গারে পাঠানো হয়েছে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে। আজ শনিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *