যেভাবে শচীনকে বিয়ে করেন অঞ্জলি

‘প্রত্যেক সফল পুরুষের পেছনে একজন নারীর অবদান আছে।’, রেকর্ড গড়া ম্যাচ শেষে প্রায়ই এমন কথা শোনা যেতো শচীন টেন্ডুলকারের মুখে। ভারতীয় ক্রিকে'টের সফল এই পুরুষের সেই অনুপ্রেরণা যোগানো নারী আর কেউ নন, তার স্ত্রী অঞ্জলি টেন্ডুলকার।

অঞ্জলি মে'হতা থেকে এখন যিনি অঞ্জলি টেন্ডুলকার। পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও তার খ্যাতি মহাতারকা শচীনের স্ত্রী হিসেবে। ২০১৩ সালে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ শেষে ভারতের ব্যাটিং গ্রে'ট বলেছিলেন, এই জায়গায় পৌঁছাতে অঞ্জলির বিসর্জনের কথা।

শচীনের জন্য একজন গোল্ড মেডেলিস্ট চিকিৎসক জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন সম্ভাবনাময়ী ক্যারিয়ারকে, যেন নিশ্চিন্তে ক্রিকেট ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। যার জন্য এত ত্যাগ, তার স'ঙ্গে ভালোবাসার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল, তা এক অনুষ্ঠানে জানালেন অঞ্জলি।

বাবা ছিলেন শিল্পপতী আনন্দ মে'হতা ও মা আন্নাবেল মে'হতা ছিলেন জন্মসূত্রে ব্রিটিশ। মুখে ‘সোনার চামচ’ নিয়ে জন্ম নেওয়া অঞ্জলির স'ঙ্গে শচীনের ভালোবাসার সূত্রপাত অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে। তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

অঞ্জলি তার মাকে নিতে এসেছিলেন, আর আন্তর্জাতিক টেস্ট সফর শেষে ফিরছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। শচীনও ছিলেন সেই বহরে। চিকিৎসক হওয়ার কারণে ক্রিকে'টের প্রতি আগ্রহ ছিল না অঞ্জলির। কিন্তু বিধাতা তো তাদের দুজনের সম্পর্ক আগেই তৈরি করে দিয়েছিলেন, তা জোড়া তো লাগবেই!

অঞ্জলি বললেন তাদের সেই ভালোবাসার গল্প, “আমি তাকে চিনতামই না। তার বয়স হয়তো ওই সময় ছিল ১৭ বছর, কিন্তু দেখতে মনে হচ্ছিল ১২ বছরের একটা ছেলে। আমা'র স'ঙ্গে অ’প'র্ণা (বান্ধবী) ছিল, সে আমাকে বললো যে ‘ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিস্ময় বালক সে। সবেমাত্র সে ভারতীয় ক্রিকে'টের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হয়েছে।’ আমি বললাম তাতে কী আসে যায়। আমা'র ক্রিকে'টে কোনও আগ্রহ ছিল না। আমি তাকে দেখলাম, কিন্তু তাকে অনেক সুন্দর লাগছিল। আমি তার পেছনে দৌড়াতে লাগলাম। ওই সময় বিমানবন্দরের দর্শকদের জন্য গ্যালারি ছিল। আমি ওই দিন মাকে নিতে গিয়েছিলাম, ইংল্যান্ড থেকে আসছিলেন তিনি।’

অঞ্জলি আরও বললেন, ‘আমি কেবল শচীনকে দেখলাম, অ’প'র্ণাকে বললাম ছেলেটা কত্ত সুন্দর। আমি দৌড়াতে লাগলাম। ভুলেই গেলাম মায়ের কথা। শচীন, শচীন বলে চিৎকার করছিলাম। সে খুব বিব্রতবোধ করছিল। হয়তো বলছিল, কে এই মেয়ে আমা'র পেছনে দৌড়াচ্ছে আর নাম ধরে চিৎকার করছে। আমা'র দিকে একবারও সে তাকায়নি। মাথা নিচু করে গাড়িতে উঠে চলে গেলো।’

অনুষ্ঠানে তার পাশে থাকা শচীন বললেন, ‘আমি শুধু তার টি-শার্টের রঙ খেয়াল করেছি।’ অঞ্জলিও তাই বললেন, ‘আমা'র স'ঙ্গে প্রথম দেখায় তার শুধু ওটাই মনে আছে।’ এরপর শচীনের স'ঙ্গে কথা বলার জন্য আর তর সইছিল না অঞ্জলির। কলেজের শেষ বর্ষে পড়ছিলেন তিনি, ওই কলেজেরেই এক বন্ধু যিনি ক্রিকেট খেলতেন; পরদিন তার কাছে গিয়ে বলেন, ‘তোমাকে আমা'র একটা কাজ করে দিতে হবে। আমাকে শচীন টেন্ডুলকারের ফোন নম্বর এনে দিতে হবে। তার মা তাদের আ'ত্মীয় ছিল এবং আমাকে নম্বরটা এনে দিলো। একে আমি নিয়তিই বলি।’

শচীনকে ফোন দিতে দেরি করেননি অঞ্জলি, “আমি শচীনকে কল করেছিলাম, সে ফোন ধরতো না তেমন একটা। ওই সময় তো মোবাইল ফোন ছিল না। কিন্তু ওই দিন সে ফোন ধরলো। আমি বললাম, হাই, আমা'র নাম অঞ্জলি। আপনি হয়তো আমাকে চিনবেন না? আমি আপনাকে গতকাল বিমানবন্দরে দেখেছিলাম। সে বললো ‘ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে আপনাকে।’ আমি জানতে চাইলাম কী পরেছিলাম বলুন তো। সে বললো, আপনি কমলা রঙয়ের একটা টি শার্ট পরে ছিলেন।’ তখন আমি বুঝলাম, আরে সে তো আমাকে খেয়াল করেছে।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকে'টে অ'ভিষেকের পরের বছর ১৯৯০ সালে শচীন-অঞ্জলির প্রথম দেখা। এর চার বছর পর নিউ জিল্যান্ডে তাদের বাগদান হয়। ১৯৯৫ সালের ২৪ মে গাঁটছাড়া বাঁধেন তারা। দুই বছর পর তাদের ঘর আলো করে আসে প্রথম সন্তান সারা। ছেলে অর্জুন আরও দুই বছর পর। অ’প্রত্যাশিত প্রেমের সুখের পরিণয়, দিব্যি সুখে দিন কাটছে তাদের।

About admin

Check Also

রিমান্ড শেষে কারাগারে মামুনুল

ছয় মা'মলায় ১৮ দিনের রি'মান্ড শেষে কারা'গারে পাঠানো হয়েছে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে। আজ শনিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *