বাউফলে ছেলের কাছে ভরণপোষন চাওয়ায় বাবার দুহাত ভেঙ্গে দিল ছেলে!

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: ছেলের কাছে ভরণপোষন চাওয়ায় বৃ'দ্ধ বাবাকে বেধরক পি'টিয়ে দুই হাত ভেঙে দিয়ে ঘরে আট'কে রাখেন ছেলে। একদিন পড় খবর পেয়ে নাতনী (বড় ছেলের মেয়ে) তাকে উ'দ্ধার করে চিকিৎসা দিতে উপজে'লা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

এমনই ঘটনা পটুয়াখালীর বাউফল উপজে'লায়। বৃ'দ্ধ ওই বাবার নাম মো.সেকান্দার আলী সিকদার (৮৪)। তার বাড়ি উপজে'লার সূর্যমনি ইউনিয়নের ইন্দ্রোকুল গ্রামে। এ ঘটনায় ছেলের বিচার চেয়ে বাবা বাউফল থানায় এজাহার করেছেন।

বৃ'দ্ধ পিতা সেকান্দার আলী সিকদার বলেন, তার চার ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে সিদ্দিক সিকদার ঢাকায় থাকে। মেঝ ছেলে মিজান ও সেজ ছেলে সবুজ বাড়িতে থাকে। ছোট ছেলে ফিরোজ সিকদার তার শ্বশুর বাড়ির কাছে আলাদা বাড়ি করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকে। মেয়ে তাজ মহলকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। বর্তমানে তিনি তার স্ত্রী ময়না বেগমকে নিয়ে নিজ ঘরে পরবাসি জীবন যাপন করছেন।

তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, কোন ছেলেরা তাদের একটি বারের জন্যও জিজ্ঞেস করে না কেমন আছো বাবা। কি ভাবে তোমা'দের দিন চলে। কি খাও তোমর'া ?

এক সময় খুদার যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী ময়না তার মেয়ে তাজ মহলের কাছে চলে যায়। তিনি মাঝে মধ্যে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে চললেও করো’নার কারনে তা হয়ে ওঠে না।

ঘটনার দিন শনিবার দুপুরের দিকে সেকান্দার আলী সিকদারের সেজ ছেলে সবুজ বাড়ির বাঁশ কে'টে সাবার করছিলেন। ওই খবর পেয়ে তিনি (সেকান্দার আলী সিকদার) বাড়ি গিয়ে সেজ ছেলেকে বাঁশ কা'টার কারণ জানতে চান। এসময় ছেলের সাথে তার তর্ক হয়। তিনি ছেলেকে বলেন,‘ আমা'র সম্পদ ভোগ করতে হলে আমাকে এবং তোমা'র মাকে ভরণপোষন দিতে হবে।’ এতে সেজ ছেলে সবুজ ক্ষু'দ্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তার হাতে থাকা বাঁশ কা'টা দায়ের উল্টো দিক দিয়ে তাকে বেধরক পি'টিয়ে পি'টিয়ে ঘরে আট'কে রাখেন।

রবিবার দুপুরে এই খবর পেয়ে বড় ছেলে সিদ্দিকুর রহমান সিকদারের মেয়ে (নাতনী) মর'িয়ম বেগম ওই বাড়িতে গিয়ে তার দাদাকে উ'দ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করেন।

ক'র্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আখতারউজ্জামান বলেন, বৃ'দ্ধের হাত এক্সে করে দেখা গেছে তার বাম হাতের মধ্য অংশ ও ডান হাতের বৃ'দ্ধ আ'ঙ্গল সম্পূর্ন ভে'ঙ্গে গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।

নাতনী মর'িয়ম বেগম বলেন, তার দুই চাচা বাড়িতে থাকেন। তারাই দাদার সম্পদ ভোগ করেন। অথচ দাদা ও দাদীকে ভরনপোষন দিতে চাননা। ভরণপোষন চাইলে মা'রধর করেন। এর আগেও কয়েক বার তার দাদাকে মা'রধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তার দাদা নিরুপায় হয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে জীবন চালায়। রাতে মসজিদে কিংবা কোন দোকান ঘরের সামনের বেঞ্চে ঘু'মান। আর তার দাদী কখনো মেয়ের বাড়ি, আবার কখনো তার বাড়িতে এসে থাকেন।

এ ঘটনায় বৃ'দ্ধ পিতা সেকান্দার আলী বাউফল থানায় সেজ ছেলে সবুজ সিকদারের বিরু'দ্ধে এজাহার দাখিল করেছেন।

বাউফল থানার ওসি (ত'দন্ত) আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,‘ অ’পরাধীকে গ্রে''প্ত ারে জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’এ ঘটনায় কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সবুজ সিকদারকে গ্রে''প্ত ার করা হবে।

About admin

Check Also

রিমান্ড শেষে কারাগারে মামুনুল

ছয় মা'মলায় ১৮ দিনের রি'মান্ড শেষে কারা'গারে পাঠানো হয়েছে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে। আজ শনিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *