২৫ নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, কিশোরীকে পেতে বাবা-মাকে হ”ত্যা

এমন এক অ’পরাধী রয়েছেন, যিনি কোনো মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে বা তার যৌ'ন লালসা মেটাতে সেই মেয়েটির সাথে প্রেম করার চেষ্টা করে না। বরং ওই মেয়েটির বাবা-মা অথবা অন্য কোনো অ'ভিভাবকের স'ঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। এরপর তাদের মাধ্যমেই ওই মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফেলে।

অবাক করা বি'ষয় হলো- সংশ্লিষ্ট অ'ভিভাবকেরাই ওই মেয়েটির সাথে সেই অ’পরাধীর শারীরিক সম্পর্কের ব্যবস্থা করে দিতেন। তবে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাবা-মা নিজের মেয়ের সাথে এমনটা করতে দিতে চাননি। নিজের মেয়ের ক্ষ'তি করতে রাজি হননি বাবা-মা। আর সে কারণেই তাদের শ্বা'সরোধ করে হ'ত্যা করে ওই অ’পরাধী। শুধু তাই নয়, বাবা-মাকে হ'ত্যার পর ওই ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে ধ'র্ষণ করে পালিয়ে যায় সেই অ’পরাধী।

অনেক দিন পালিয়ে থাকার পর অবশেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গো'পালগঞ্জ জে'লা ইউনিটের হাতে গ্রে''প্ত ার হয়েছে সেই ভয়ংকর অ’পরাধী। গ্রে''প্ত ারকৃতের নাম- আশরাফুল মোল্লা (৩৮)। নড়াইল জে'লার থানা এলাকা থেকে গত ২২ এপ্রিল তাকে গ্রে''প্ত ার করা হয়। গ্রে''প্ত ারের পর আ'দালতে ১৬৪ ধা'রার জবানব'ন্দিও দিয়েছেন তিনি।

আ'দালতে প্রদান করা সেই জবানব'ন্দি ও মা'মলা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মক'র্তার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে ।

‘জোড়া খু'নের যে মা'মলায় গ্রে''প্ত ার’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মা'দারীপুর জে'লার কালকিনি থানায় গত ৭ এপ্রিল একটি মা'মলা দায়ের হয়। ওই মা'মলায় বলা হয়েছে, মৃ'ত মোয়াজ্জেম সরদার (৫০) ও মাকসুদা বেগম (৪৫) ৫ এপ্রিল দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় তার জামাতা এমর'ান সরদার (৩০) বাদী হয়ে কালকিনি থানার মা'মলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল নিখোঁজ ওই স্বামী-স্ত্রীর মৃ'তদে'হ স্থানীয় লোকজন তাদের নিজ বাড়ি থেকে আনুমানিক ২৫০ গজ দূরে নির্জন স্থানে দেখতে পায়। এরপর সংবাদ পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ মৃ'তদে'হের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তত করে এবং মৃ'ত্যুর কারণ জানতে ময়নাত'দন্তের জন্য মর'্গে প্রেরণ করে।

ওই মা'মলাটি পিবিআই গো'পালগঞ্জ স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে ত'দন্তভার এসআই (নিঃ) আল আমিন শেখের উপর অর্পণ করে। পরে এসআই (নিঃ) মো. আল আমিন শেখ তার স'ঙ্গীয় ফোর্সসহ অ'ভিযান চালিয়ে ওই মা'মলার প্রধান আ'সামি আশরাফুল মোল্লাকে (৩৮) গ্রে''প্ত ার করেন।

‘মেয়েকে ধ'র্ষণ করতে মা-বাবাকে হ'ত্যা’

মা'মলার ত'দন্তকারী কর্মক'র্তারা জানান,গত ২৮ মা'র্চ ফরিদপুর কৃষেন (শ্রমিক) হাট থেকে কৃষি কাজ করার জন্য আ'সামি আশরাফুল মোল্লা এবং ভোলারাও নামের দুই জন শ্রমিক বাড়িতে আনে মৃ'ত মোয়াজ্জেম সরদার।

ওই বাড়িতে মৃ'ত মোয়াজ্জেম সরদার তাদের কন্যা আন্তানুর (১৪) ও নুসরাতকে (৬) নিয়ে বসবাস করতেন। মোয়াজ্জেম সরদার বাড়িতে কাজে যাওয়ার পর থেকেই তাদের কন্যা আন্তানুর প্রতি তার কুদৃষ্টি ছিল আ'সামি আশরাফুল মোল্লার।

আ'সামি আশরাফুল মোল্লা বিভিন্ন সময় কাজের ফাঁ'কে সুযোগ পেলেই আন্তানুরের (১৪) সাথে গল্প করতো এবং তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করতো।

বি'ষয়টি মোয়াজ্জেম সরদারের নজরে আসলে; তখন আ'সামি আশরাফুল মোল্লা নিজেই আন্তানুরকে পছন্দের কথাটি জানায়। সব জেনেবুঝে মোয়াজ্জেম তার মেয়ের ভবি'ষ্যতের কথা চিন্তা করে আশরাফুলকে আন্তানুরের সাথে কথা বলতে নিষে'ধ করে দেয়।

কিন্তু বিকৃতমনা আশরাফুল মোল্লা আন্তানুরের প্রতি তার যৌ'ন লালসা চরিতার্থ করার সুযোগ খুঁজতে থাকে এবং মনে মনে পরিকল্পনা করে যে, আন্তানুরের বাবা-মাকে খু'ন করে সেই রাতে আন্তানুরের ঘরে প্রবেশ করার পথ তৈরি করবে।

পিবিআই জানায়, আশরাফুল মোল্লা তার পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৫ এপ্রিল রাতে প্রথমে মোয়াজ্জেম সরদারকে কৌশলে বসতভিটা থেকে আনুমানিক ২৫০ গজ দূরে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বা'সরোধ করে হ'ত্যা করে। পরবর্তীতে একই কৌশল অবলম্বন করে তার স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে একই স্থানে ডেকে নিয়ে একই গামছা দ্বারা গলায় পেঁচিয়ে শ্বা'সরোধ করে হ'ত্যা করে। এরপর রাতেই কয়েক মিনিট পর আশরাফুল মোল্লা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরে থাকা নাবালিকা মেয়ে আন্তানুরকে কৌশলে ইচ্ছার বিরু'দ্ধে ধ'র্ষণ করে পালিয়ে যায়।

‘ভূয়া পরিচয় দিত আশরাফুল’

গ্রে''প্ত ার আশরাফুল মোল্লা সম্পর্কে জানতে চাইলে অ'ভিযানের নেতৃত্বদানকারী পিবিআইয়ের গো'পালগঞ্জ জে'লার পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ দৈনিক আমা'দের সময়কে বলেন,‘গ্রে''প্ত ারকৃত আ'সামি আশরাফুল মোল্লা (৩৮) ইতিপূর্বে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার ভূয়া পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জে'লায় অ'ভিভাবকদের ফুঁসলিয়ে বিভিন্ন নারীর স'ঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আশরাফুল মোল্লার বিরু'দ্ধে যশোর, নড়াইল ও রাজশাহীতে ৫টি মা'মলা চলমান রয়েছে।’

‘দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে আরেক নারীকে ধ'র্ষণ’

ভ'য়ানক এই অ’পরাধী আ'দালতে দেওয়া তার জবানব'ন্দিতে বলেছেন, তার প্রথম স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করে সে। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ি ছিলো যশোরে।

যশোর তার শ্বশুর বাড়ি এলাকাতেই এক কলেজে পড়ুয়া মেয়ের সাথে আশরাফুলে পরিচয় হয়। ওই মেয়ের সাথে তার শারীরিক সম্পর্কও হয়।

পরে আশরাফুলের পূর্বের সকল অ’পকর্ম জানার পরই ওই কলেজে পড়ুয়া মেয়েটিও যশোর আ'দালতে তার বিরু'দ্ধে ধ'র্ষণ মা'মলা দায়ের করেছে। এছাড়াও খুলনা ডমুরিয়া শাহজানপুর এলাকায় এক নারীকে ভুল বুঝিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করায় তার মেয়েকে দিয়ে।

এরপর ওই মেয়ের সাথেও শারীরিক সম্পর্ক করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনায় তার বিরু'দ্ধে যে সকল মা'মলা দায়ের হয়েছে। সেই মা'মলার মধ্যে নড়াইল ও রাজশাহীর দুটি মা'মলায় তার শাস্তি হয়েছে। এমনকি জেলও খেটেছেন আশরাফুল। জেল থেকে বেরিয়ে আবারও একই রকমের অ’পরাধে জড়িয়েছেন তিনি।

‘২৫ নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ত'দন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মক'র্তা জানান, আশরাফুল মোল্লা নিজেকে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার ভূয়া সদস্য পরিচয় দিয়ে অনেক মেয়ের অ'ভিভাবকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর তাদের মেয়েকে বিয়ে করবেন বলে প্রস্তাব দেব। প্রমাণস্বরুপ সে সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত কিছু বানানো ছবি ওই সকল মেয়েদের অ'ভিভাবকদের দেখায়।

ফলে অনেক মেয়ের অ'ভিভাবকেরাই খুব সহজে রাজি হয়ে যায়। এরপর সেই মেয়ের সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের একটা সুযোগও তৈরি হয়।

অনেক সময় ওই মেয়ের অ'ভিভাবকদের বিশ্বাযোগ্যতা বাড়াতে কাবিন ছাড়াই শুধু ইসলামিকভাবে বিয়ের ছলনা করে তার যৌ'ন লালসা মিটিয়ে পালিয়েছে আশরাফুল।

পরে লোকল'জ্জার ভয়ে বেশিরভাগ মেয়ের পরিবারের লোকজন থানায় বা পুলিশের কাছে কোন অ'ভিযোগ করতে যায়নি। তবুও এ ধরনের ঘটনায় আশরাফুলের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মা'মলা দায়ের হয়েছে।

জোড়া খু'নের মা'মলার ত'দন্তকারী অফিসার পিবিআইয়ের গো'পালগঞ্জ জে'লার উপ-পরিদর্শক এসআই মো. আল-আমিন শেখ দৈনিক আমা'দের সময়কে বলেন, ‘গ্রে''প্ত ারকৃত আ'সামি আশরাফুল মোল্লাকে (৩৮) গতকাল শুক্রবার আ'দালতে ১৬৪ ধা'রায় জবানব'ন্দি প্রদান করেছেন। তার বিরু'দ্ধে আরও একাধিক মা'মলা রয়েছে।’

About admin

Check Also

খেলতে যাই

খেলতে যাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *