মাকে সুস্থ করেই বাড়ি ফিরলেন পিঠে সিলিন্ডার বাঁধা সেই ছেলে

পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মাকে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সেই যুবক মাকে নিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন।শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে তিনি তার মা রেহানা পারভিনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহরের বাড়িতে ফেরেন যুবক জিয়াউল হাসান।

এর আগে হাসপাতালের করো’না ওয়ার্ডের সামনে মাকে নিয়ে হাত নাড়িয়ে বিজয় চিহৃ দেখান। গত ১৭ এপ্রিল পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে করে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।জিয়াউল হাসান কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠি শাখার কর্মক'র্তা। তার রেহানা পারভিন নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তারা থাকেন ঝালকাঠি জে'লার নলছিটি পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যপাশা এলাকায়। গতবছর জিয়াউল হাসানের বাবা বীর মুক্তিযো'দ্ধা হাকিম মোল্লা মৃ'ত্যুবরণ করেন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করো’না ওয়ার্ডের এক চিকিৎসক জানান, রেহানা পারভিন করো’নামুক্ত তা বলা যাব'ে না। কারণ পজিটিভ আসার অন্তত ১১ দিন আগে দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষা করানো হয় না। তার দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষা করানো হয়নি। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার ভালো উন্নতি হয়েছে। এখন আর তার শ্বা'সকষ্ট নেই। রেহানা পরভিনকে মেডিকেলে ভর্তির সময় অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল ৭০। আজ সেখানে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল ৯৬। চিকিৎসক আরও বলেন, ‘এরপরও রেহানা পারভিনকে ছাড়তে আমর'া রাজি ছিলাম না।

কিন্তু রোগী হাসপাতালে থাকতে রাজি ছিলেন না। বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেয়ার কথা জানান তিনি। তার ছেলে জিয়াউল হাসান তার মাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করানোর কথা বলেন। পরে তিনি স্বেচ্ছায় মুচলেকা দিয়ে মাকে নিয়ে গেছেন। এতে রেহানা পারভিনের মাধ্যমে করো’না ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছেও বলে এই চিকিৎসক জানান। ব্যাংক কর্মক'র্তা জিয়াউল হাসান বলেন,

‘এখন মা আগের তুলনায় অনেকটা সুস্থ। শ্বা'সকষ্ট নেই। বলতে গেলে সবকিছুই স্বাভাবিক। তাই মাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। বাড়িতে রেখেই চিকিৎসকের পরামর'্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হবে।’ মায়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। প্রস'ঙ্গত, গত স'প্ত াহে রেহানা পারভিন সর্দি-জ্বর-কাশিতে আ'ক্রা'ন্ত হন। করো’না সন্দে'হ হলে তার নমুনা পরীক্ষার জন্য দেয়া হয়।

গত ১৫ এপ্রিল তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর রেহানা পারভিন বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে তার শ্বা'সকষ্ট শুরু হয়। দুপুরে শ্বা'সকষ্ট আরও তীব্র হয়। কিন্তু লকডাউনের কারণে তাকে হাসপাতালে নেয়ার মতো যানবাহন পাচ্ছিলেন না স্বজনরা। আবার কেউ কেউ করো’না রোগী শুনে তাদের গাড়িতে নিতে রাজি হচ্ছিল না।

এ কারণে কোনো উপায় না দেখে পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে রেহানা পারভিনকে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল মেডিকেলে নিয়ে আসেন জিয়াউল হাসান। ওইদিন দুপুরে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের বিশ্ববিদ্যালয় সংল'গ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায় ডিউটি ছিল বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ মোর্শেদ টুটুলের।

বিকেল ৩টার দিকে জিয়াউল হাসান তার মাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ওই স্থান অতিক্রমকালে দৃশ্যটি দেখে তিনি তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন। এরপর সাড়ে ৩টার দিকে ছবিটি তিনি ফেসবুকে তার আইডি থেকে পোস্ট করেন। এর কয়েকঘণ্টার মধ্যে ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়।

About admin

Check Also

খেলতে যাই

খেলতে যাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *