মুগদা হাসপাতালের ১১তলা থেকে লাফিয়ে মৃত্যুর আগে যা লিখে গেছেন করোনা রোগী

চিরকুটের লেখাটি তেমন স্পষ্ট ছিল না। তবু পুলিশ সদস্যরা পড়ার চেষ্টা করেছেন। এতে লেখা ছিল, ‘আমি স্বেচ্ছায় আ'ত্মহননের পথ বেছে নিলাম। আমাকে মুসলিম রীতিতে দা'ফন করা হোক।’

চিরকুটটি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১তলার ১১০৬ নম্বর কেবিন থেকে উ'দ্ধার করেছে পুলিশ। এই রুমেই ছিলেন হাসিব ইকবাল হক নামের ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তার ডাক নাম সানি।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে করো’নায় আ'ক্রা'ন্ত হয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজের একজন ঊর্ধ্বতন চিকিৎসকের রেফারেন্সে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাতে ১০টার দিকে হঠাৎ তিনি হাসপাতালের কেবিনের বাইরের রেলিং থেকে লাফ দেন। পড়ে ঘটনাস্থলেই মা'রা যান তিনি।

মুগদা মেডিকেলের ১১তলার একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন এক রোগী বলেন, আমা'দের রুমে একজন নার্স এসে বলল আপনাদের রোগী আছে? আমা'দের নাম পরিচয় নিশ্চিত হয়ে চলে গেল। পরে জানতে পারলাম কেউ একজন মা'রা গেছে। তিনি কোন রুমের রোগী চিকিৎসকরা তা জানার চেষ্টা করছেন।

এএইচ এম ফারুক নামে ১১তলার একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন বলেন, ১০টার দিকে হাসপাতালে ১১তলা থেকে একজনের লাফ দিয়ে একজনের আ'ত্মহ'ত্যার খবর শুনলাম। তবে তাকে প্রথমে শনাক্ত করতে পারেনি হাসপাতাল ক'র্তৃপক্ষ। রোগীর পরিচয় জানতে হাসপাতালের প্রায় সবগু'লো রুম সার্চ করা হয়। অবশেষে ১১তলার ১১০৬ নম্বর রুমের এক রোগীকে না পেয়ে আ'ত্মহননকারীর বি'ষয়ে নিশ্চিত হয় হাসপাতাল ক'র্তৃপক্ষ। তার রুমে একটি সু'ইসাইড নোটও পাওয়া গেছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মুগদা থানার ভারপ্রা'প্ত কর্মক'র্তাসহ (ওসি) অন্যান্য কর্মক'র্তারা। হাসপাতালের রেজিস্টার দেখে তারা রোগীর নাম ও বর্তমান ঠিকানা জানতে পারেন। ওই রোগী নিউ ইস্কাটনের ৫৪ নম্বর বাড়ির বি-২ ফ্ল্যাটে থাকেন। তবে হাসপাতালে তার স্বজন বা পরিবারের কারও বি'ষয়ে কোনো তথ্য নেই।

পরে তার এক সৎ ভাইয়ের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশ। তার স'ঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, হাসিব অবিবাহিত। ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। পরিবারে কেউ নেই। অসুস্থ বোধ করায় মুগদা মেডিকেলের প্রফেসর রুবিনা ইয়াসমিন তাকে এখানে ভর্তি করেন। তার আ'ত্মীয়স্বজনরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। একা থাকতে থাকতে তার মানসিক সমস্যাও হয়েছিল।

ঘটনাস্থল থেকে হাসিবের মর'দে'হ উ'দ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাসিব ইকবাল করো’নায় আ'ক্রা'ন্ত হয়ে হাসপাতালের ১১তলায় ভর্তি ছিলেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ১১তলা থেকে তিনি লাফিয়ে পড়ে আ'ত্মহ'ত্যা করেছেন। বি'ষয়টি ত'দন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এসআই শরিফুল বলেন, তার রুমে এক পাতার সু'ইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেটাতে ‘আমি স্বেচ্ছায় আ'ত্মহননের পথ বেছে নিলাম। আমাকে মুসলিম রীতিতে দা'ফন করা হোক,’ লেখা ছিল। তার পরিবারে কেউ নেই। সৎ ভাইয়ের স'ঙ্গে কথা বলেছি, তিনি আসছেন। ময়নাত'দন্তের জন্য মর'দে'হ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে হাসপাতালের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, সু'ইসাইড নোটটি একাধিক পৃষ্ঠার ছিল। অনেকে পুলিশ আসার আগে এটি পড়েছে। তবে পরে পুলিশ এসে বলল মাত্র এক পৃষ্ঠার এক লাইনের নোট।

জানতে চাইলে মুগদা থানার ভারপ্রা'প্ত কর্মক'র্তা (ওসি) প্রলয় কুমা'র সাহা বলেন, ‘তিনি করো’নায় আ'ক্রা'ন্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

About admin

Check Also

খেলতে যাই

খেলতে যাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *