মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নারীসহ গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়াল রিসোর্টে অবরু'দ্ধ করে রাখেন স্থানীরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উ'দ্ধার করে। তবে এবার আর ছাড় পাচ্ছেন না তিনি। বারবার সমালোচনায় আসা এ হেফাজত নেতার বিরু'দ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সি'দ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গতকাল ম'ঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীসহ অবরু'দ্ধ থাকার বি'ষয়ে সরকার ত'দন্ত করছে। এ ঘটনায় আপাতত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও হেফাজতের আগের সহিং'সতার অ'ভিযোগে চলমান মা'মলাগু'লোকেই এখন সামনে আনা হবে। এ ছাড়া সম্প্রতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সং'ঘটিত নাশ'কতা ও সং'ঘা'তের ব্যাপারেও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জে এক নারীসহ অবরু'দ্ধ হওয়া প্রস'ঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। ত'দন্ত করা হচ্ছে। হেফাজত নেতারা মামুনুল হককে সমর'্থন দিলেও আমর'া যে তথ্য পাচ্ছি তাতে তিনি অনেক জঘন্য অনৈ'তিক কর্মকাণ্ডের স'ঙ্গে জড়িত।

ইসলাম ধ'র্মে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সহিং'সতার ব্যাপারে সরকার কোনো ছাড় দেবে না। তারা যে কর্মকাণ্ড করেছে, সেটা মোকাবিলা করতে হলে শত শত মানুষকে গু'লির মুখে ফেলতে 'হতো। কিন্তু সেটা সরকার করে নাই, সরকার ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। সারা জাতি দেখেছে এবং সারা পৃথিবীর মানুষ দেখেছে যে, ধ'র্মান্ধ’রা কী করতে পারে-সরকার কঠোর পদ'ক্ষেপ নেবে। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এ ধ্বং'সাত্মক কাজে জড়িত ছিল, তাদের সবাইকে আইন অনুযায়ী কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তারা কোনোক্রমেই রেহাই পাবে না। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকালে দেশে সহিং'সতার ঘটনায় সারাদেশে মোট ২৫টি মা'মলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনার জন্য হেফাজতকে দায়ী করা হলেও মা'মলাগু'লোতে সংগঠনটির নেতাদের নাম দেওয়া হয়নি। তবে গত ২৬ মা'র্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সহিং'সতার ঘটনায় ৫ এপ্রিল হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ১৭ জনকে আ'সামি করে মা'মলা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উপ-দ'প্ত র সম্পাদক খন্দকার আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে পল্টন থানায় মা'মলাটি করেন। এসব অ'ভিযোগেই সরকার এখন মামুনুল হক এবং হেফাজতের নেতাদের বিরু'দ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা থেকেও সে ধরনের ধারণা পাওয়া গেছে।

গত ৪ এপ্রিল মাওলানা মামুনুলের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রস'ঙ্গে সংসদে মুখ খুলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, মামুনুল যে নারীকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি পার্লারের কর্মী। একদিকে বউ হিসেবে পরিচয় দেয়, আবার নিজের বউয়ের কাছে বলে যে, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এটি বলে ফেলেছি। যারা ইসলাম ধ'র্মে বিশ্বা'স করে, এ রকম মিথ্যা কথা, অসত্য কথা কি তারা বলতে পারে? এরা ধ'র্মের নামে অধ'র্মের কাজ করে বলে আজ ইসলাম হু’মকির মধ্যে। এরা আসলে ধ'র্ম ব্যবসায়ী। এদের ছাড় দেয়া হবে না। যারাই ধ'র্মের নামে অধ'র্মের কাজ করবে, তাদের বিরু'দ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই দিন এই বি'ষয়ে মুখ খোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামুনুলের বি'ষয়ে উ'দ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ওই নারী তার স্ত্রী নন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ওই ঘটনার পর দেখলাম ওই রিসোর্টের ওপর আ'ক্রমণ। কেন এই আ'ক্রমণ আমা'র জানা নেই। সেখানে কয়েকজন বিদেশি ছিলেন। পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে তাদের রক্ষা করেছে। হেফাজতের তাণ্ডবের প্রস'ঙ্গে তিনি বলেন, হঠাৎ করে এই ধরনের তাণ্ডব কেন, নিশ্চয়ই এর কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। আমর'া ত'দন্ত করে দেখছি। যারাই তাণ্ডব করে থাকুক তাদের বিরু'দ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি। সূত্র- বিবিসি বাংলা

About admin

Check Also

খেলতে যাই

খেলতে যাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *