মোদির অনেকদিনের ইচ্ছা পুরন হল!

গো'পালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে গিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মন্দিরে পুজো দিয়ে বাংলাদেশ সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তার বহু দিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। টু'ঙ্গিপাড়ায় ব'ঙ্গবন্ধুর

সমাধিতে শ্র'দ্ধা নিবেদনের পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কাশিয়ানীতে মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ওড়াকান্দি মন্দিরে পৌঁছান তিনি।সেখানে তিনি হরিচাঁদ ঠাকুর ও গু'রুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা দেন এবং পরে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের স'ঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেনমোদি বলেন, একভাবে এই স্থান ভারত ও বাংলাদেশের আ'ত্মিক সম্পর্কের তীর্থস্থান।ওড়াকান্দি হিন্দু দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে তীর্থভূমি। নি'পী'ড়িত ও অবহেলিত নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের

মুক্তির দূত আধ্যাত্মিক পুরুষ পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের কারণেই গো'পালগঞ্জের কাশিয়ানীর ওড়াকান্দি লাখ লাখ মতুয়া ভক্তদের কাছে ওড়াকান্দি তীর্থভূমিতে পরিণত হয়েছেশ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ১২১৮ ব'ঙ্গাব্দে ইংরেজি ১৮১১ খ্রিস্টাব্দের ১১ মা'র্চ কাশিয়ানী উপজে'লা সাফলীডা'ঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের পর থেকে সাফলীডা'ঙ্গা গ্রাম ধন্য হয়ে ওঠে। হরিচাঁদ ঠাকুরের বাল্য নাম হরি ঠাকুর। কিন্তুভক্তরা তাকে হরিচাঁদ নামেই ডাকতেন। বাবা যশোবন্ত ঠাকুরের পাঁচ পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পরে পার্শ্ববর্তী ওড়াকান্দি গ্রাম বসতি গড়ে তোলেন হরিচাঁদ ঠাকুর।সেখানে হরিচাঁদ ঠাকুর অলৌকিকত্ব ও লীলার জন্য প্রসি'দ্ধ হয়ে ওঠেন।

হরিচাঁদ ঠাকুর তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। পাঠশালা অতিক্রম করে তিনি কয়েক মাস মাত্র স্কুলে গিয়েছিলেন। পরে স্কুল জীবন ভালো লাগেনি তার। এ কারণে স্কুল ত্যাগ করে তিনি মিশে যান সাধারণ মানুষের স'ঙ্গে। প্রকৃতির আকর্ষণে তিনি রাখাল বালকদের স'ঙ্গে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন।বাল্যকাল

থেকেই তিনি ছিলেন ভাবুক প্রকৃতির, বয়স বাড়ার স'ঙ্গে স'ঙ্গে তা ক্রমশ বৃ'দ্ধি পায়। তার জীবদ্দশায় ওই এলাকার নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা নি'র্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। তখন নি'র্যাতিত হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে চৈতন্যদেবের প্রেম-ভক্তির কথা সহজ-সরলভাবেপ্রচার শুরু করেন। তার এই সাধন প'দ্ধতিকে বলা হয় ‘মতুয়াবাদ’, আর এই আদর্শে যারা বিশ্বা'সী, তাদের বলা হয় ‘মতুয়া’। মতুয়া শব্দের অর্থ মেতে থাকা বা মাতোয়ারা হওয়া।হরি নামে যিনি মেতে থাকেন বা মাতোয়ারা হন, তিনিই মতুয়া। মতান্তরে ধ'র্মে যার মত আছে, সেই মতুয়া।

১৮৭২ সালের ব্রিটিশ আদমশুমা'রিতে ৩৬টি বর্ণের উদ্ভব দেখানো হয়েছিল। তার আগে থেকেই সমাজে বর্ণপ্রথা ও অস্পৃশ্যতা প্রচলিত ছিল। তাই হরিচাঁদ ঠাকুর আদর্শ গার্হস্থ্য ধ'র্ম ও মতুয়াবাদ প্রচার করেছিলেন। এই মতুয়া মতবাদ প্রচার করতে গিয়ে তিনি নীল কুঠিরের বিরু'দ্ধে আন্দোলন করেন।সমাজে জমিদারি প্রথার বিরু'দ্ধে লড়েছেন। জমিদারের লোকজন মতুয়া মতবাদ প্রচারে হরিচাঁদ ঠাকুরের অনুসারীদের বাধা দিয়ে বর্বর নি'র্যাতন করেছেন। হরিচাঁদ নিজেও অত্যাচার নি'র্যাতনের শিকার হয়েছেন।তিনি এটি প্রচার করে মতুয়াবাদ প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। আর মতুয়াবাদ প্রচারের মাধ্যমে তিনি নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সংগঠিত করেন।

তাদের বিপদ-আপদে সব সময় তিনি জাগ্রত থাকতেন। আর এভাবে নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের কাছে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। হরিচাঁদ ঠাকুর ও তার ছেলে গু'রুচাঁদ ঠাকুরের ব্যাপক আধ্যাত্মিক শক্তি ছিল। এই আধ্যাত্মিক শক্তির বলে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গু'রুচাঁদ ঠাকুর হিন্দু ধ'র্মাবলম্বী কাছে অবতার হিসেবে খ্যাত। হরিচাঁদ ও গু'রুচাঁদ ঠাকুরের জীবদ্দশায় তাদের আধ্যাত্মিক শক্তির কারণে বিভিন্ন রোগাক্রা'ন্ত মানুষ মুক্তি পেয়েছেন এবং অনেক বন্ধ্যা নারী সন্তান লাভ করেছেন।

এছাড়া কুষ্ঠরোগ ও বিপদ-আপদে পড়লে তাদের নাম স্মর'ণ করলে মুক্তি মিলতো বলে প্রচারিত রয়েছে। এভাবে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গু'রুচাঁদ ঠাকুরের নামযশ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।এভাবে দেশ ও দেশের বাইরে তৈরি হয় অগণিত অনুসারী। তখন থেকে তাদের ভক্ত ও অনুসারীরা ওড়াকান্দি এসে ঠাকুরকে মানত করতেন। প্রতি বছর হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম তিথিতে এখানে দেশ-বিদেশিসহ লাখ লাখ মতুয়া এখানে আসেন। রোগমুক্তি ও কামনা-বাসনে পূরণের জন্য স্নান করেন। এর মাধ্যমে ঠাকুরের সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন। এ সময় যার যার সাধ্যমত ঠাকুরের নামে দান করেন।

About admin

Check Also

মক্কা-মদিনায় ১০ রাকাত তারাবির নির্দেশ

করো’নাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বেই এক ভ'য়াবহ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন দেশে আগামীকাল থেকে রোজা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *