মুরগির দাম আরও বাড়ল শবে বরাতের আগে

আগে থেকেই চড়া দামে বিক্রি হওয়া মুরগির দাম শবে বরাতের আগে আরও এক দফা বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগু'লোতে একদিনের ব্যবধানে ব্রয়লার ও লাল লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। আর পাকি'স্তানি কক মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা পর্যন্ত।শুক্রবার (২৬ মা'র্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়। লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। আর পাকি'স্তানি কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়।ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়।

লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায়। আর পাকি'স্তানি কক মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।ব্যবসায়ীদের অ'ভিমত, দুদিন পরেই শবে বরাত। আর শবে বরাতে মুরগির চাহিদা বেশি থাকে। এ কারণেই এখন মুরগির দাম বেড়ে গেছে। শবে বরাতের আগের দিন মুরগির দাম আরও বাড়তে পারে।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মিলন শেখ বলেন, মুরগির দাম আগে থেকেই বাড়তি। তবে মাঝে দাম কিছুটা কমে কয়েকদিন ধরে বয়লার মুরগির কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। পাকি'স্তানি সোনালী মুরগির কেজি ১৬০ টাকা থেকে কমে ১৩০ টাকা হয়েছিল। কিন্তু শবেবরাতের কারণে এখন আবার মুরগির দাম বেড়ে গেছে।তিনি বলেন, মুরগির দাম নির্ভর করে পাইকারি বাজারের ওপর। গতকাল বয়লার মুরগির কেজি আমর'া ১৫০ টাকায় বিক্রি করলেও আজ কেনাই পড়েছে ১৫০ টাকা। এই দামে মুরগি কিনে ১৬০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব না। আজ তাও ১৬০ টাকা কেজি বয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে, দুদিন পর আরও বেশি দামে ব্রয়লার কিনতে হবে।

রামপুরার ব্যবসায়ী মো. ইসহাক বলেন, শবে বরাতের আগে মুরগির দাম বাড়বে এটা স্বাভাবিক বি'ষয়। আর শবে বরাতের আগে আজ শেষ শুক্রবার। স্বাভাবিকভাবেই আজ চাহিদা বেশি। এ কারণে দামও বেশি।তিনি বলেন, গতকাল আমর'া লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি করেছি ১৯০ টাকা। আর আজ কিনেই এনেছি ১৯০ টাকা কেজি। কোনো কোনো ক্রেতা এসে ১৯০ টাকা দাম বলে ঘুরে যাচ্ছে। লোকসান দিয়ে তো আর বিক্রি করা সম্ভব না। আজ যারা ২০০ টাকা কেজি লেয়ার মুরগি কিনছে না, তারাই দুদিন পর ২৩০ টাকা কেজি কিনবে। কারণ শবে বরাতের আগের দিন মুরগির দাম আরও বাড়বে বলে আমা'দের ধারণা।

শবে বরাতকে সামনে রেখে মুরগির দাম বাড়লেও স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজের দাম। হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পর গত স'প্ত াহে দাম কমা পেঁয়াজের দাম নতুন করে আরও কমেছে। এতে দুই স'প্ত াহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ২০ টাকা।এখন ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকায়। যা গত স'প্ত াহে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আর দুই স'প্ত াহ আগে ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।পেঁয়াজের পাশাপাশি স্বস্তি দিচ্ছে রসুন, আ'দা, জিরা এবং ডিম। ফার্মের মুরগির ডিম ডজন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে দেশি আ'দা। জিরা পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি।

পেঁয়াজের দামের বি'ষয়ে মালিবাগের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, কিছু দিন আগে হুট করে পেঁয়াজের দাম যেভাবে বেড়েছিল, আমর'া ধারণা করছিলাম রোজার আগে পেঁয়াজের দাম আর কমবে না। কিন্তু দুই স'প্ত াহ ধরে পেঁয়াজের দাম কমেছে। ৫৫ টাকা থেকে কমতে কমতে পেঁয়াজের কেজি এখন ৩৫ টাকায় নেমেছে। শুনছি সামনে দাম আরও একটু কমতে পারে।শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, আগামী মাসের শুরুতেই ভালো মানের পেঁয়াজ ওঠা শুরু হবে। এখন বাজারে মুড়ি কা'টা পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এই পেঁয়াজের সরবরাহ এখন পর্যা'প্ত পরিমাণে রয়েছে। সে হিসেবে সামনে পেঁয়াজের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বরং পেঁয়াজের দাম আরও কমতে পারে।

এদিকে, দুই স'প্ত াহ আগে দুই’শ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া সজনের ডাটার দাম কমে এক’শ টাকায় চলে এসেছে। বাকি সবজিগু'লোর দাম স'প্ত াহের ব্যবধানে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে শশার দাম কিছুটা বেড়েছে। গত স'প্ত াহে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শশার দাম বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে।অন্যান্য সবজির মধ্যে পটল ও ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ টাকা। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।এছাড়া বেগু'নের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, গাজরের কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কয়েক স'প্ত াহ ধরেই এ সবজিগু'লোর দাম অ’পরিবর্তিত রয়েছে।ফুলকপি, বাঁধাকপির ও লাউয়ের দামও স'প্ত াহের ব্যবধানে অ’পরিবর্তিত রয়েছে। গত স'প্ত াহের মতো ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস।

About admin

Check Also

মক্কা-মদিনায় ১০ রাকাত তারাবির নির্দেশ

করো’নাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বেই এক ভ'য়াবহ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন দেশে আগামীকাল থেকে রোজা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *