প্রশংসায় ভাসছেন সহকারী নারী পুলিশ সুপার এসআইকে বিয়ে করে

উজ্জল-ঊর্মির সম্পর্কের শুরুটা ফেসবুকে হাই-হ্যালো থেকে। এরপর দুজনের মধ্যে ভালোলাগা-ভালোবাসার জন্ম। অতঃপর মধুর পরিণয়। এখন তারা সুখী ও অনুকরণীয় পুলিশ দম্পতি।

উজ্জল কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আর ঊর্মি রেলওয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মর'ত আছেন।

একই বাহিনীতে নিজের থেকে নিম্ন পদের কর্মক'র্তাকে বিয়ে করে আফসোস নেই, বরং উজ্জলের মতো ভালো মানুষকে জীবনস'ঙ্গী হিসেবে পেয়ে গর্ববোধ করেন এএসপি ঊর্মি।

ঊর্মি দেব চট্টগ্রাম মহানগরের চাঁন্দগা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আর উজ্জল ঘোষের বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজে'লায়। গত ২০২০ সালের ৩১ নভেম্বর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। ঊর্মি ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন সদস্য। তার বাবা পেশায় আইনজীবী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে ঊর্মিই বড়। তার ছোট ভাই ৩৭তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন সদস্য। আর উজ্জলের বাবা একজন পরিবহন ব্যবসায়ী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে উজ্জল দ্বিতীয়।

এএসপি স্ত্রীর স'ঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে এসআই উজ্জলের দেয়া পোস্ট রীতিমোত ভাইরাল হয়ে গেছে। প্রশংসায় ভাসছেন এই এসআই-এএসপি দম্পতি।

গত ১৭ মা'র্চ ঊর্মি দেবের পাশে দাঁড়িয়ে তার কার্যালয়ে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে উজ্জল ঘোষ লেখেন, পুলিশিং পেশার ব্যাপারে যাদের একটু ধারণা আছে, তারা বলতে পারবেন অবস্থানগত দিক থেকে আমা'র সহধ'র্মিণীর অবস্থান আমা'র থেকে কতটা ওপরে। না, আমা'দের বিয়ের পর আমা'দের কারও চাকরি হয়নি। আমা'র ও আমা'র সহধ'র্মিণীর অবস্থানের এই আকাশ-পাতাল পার্থক্যের তোয়াক্কা না করে এই দেবীতুল্য মানুষটা আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন।

যখন অহরহ পোস্ট দেখি মেয়েরা লোভী হয়, মেয়েরা বিসিএস স্বামী খুঁজে পেলে সব ছাড়তে পারে, মেয়েরা টাকা আর অবস্থান ছাড়া আর কিছু বোঝে না, আমা'র তখন খুব হাসি পায়। মায়ের জাত নিয়ে কী আমা'দের চিন্তাধা'রা এটা ভেবে। একজন বিসিএস কর্মক'র্তা যে কিনা আমা'র মতো একজন সামান্য মানুষকে এতটা আপন করে নিয়েছেন তিনিও তো একজন মেয়ে।

উজ্জল ঘোষের এই পোস্ট ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকে প্রশংসায় ভাসছেন উজ্জল-ঊর্মি দম্পতি। তবে কেউ কেউ নেতিবাচক মন্তব্যও করছেন তাদের নিয়ে।

এ প্রস'ঙ্গে রেলওয়ের আখাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ঊর্মি দেব ঢাকা পোস্টকে বলেন, ২০১৯ সালে পুলিশ একাডেমিতে প্র'শিক্ষণে গিয়ে উজ্জলের স'ঙ্গে পরিচয় হয়। ওদের প্র'শিক্ষণ তখন শেষ পর্যায়ে ছিল। সেখানে ফেসবুকেই আমা'দের পরিচয় হয়। এরপর মাঝে-মধ্যে কথা বলতাম। সেই থেকে আমা'দের মধ্যে ভালোলাগা তৈরি হয়। আমর'া যাওয়ার তিন-চার মাস পরেই ওরা প্র'শিক্ষণ শেষ করে বের হয়ে যায়। এরপর মাঝে-মধ্যে কথাবার্তা 'হতো। আমর'া দুইজন দুইজনের পরিবারে আমা'দের বি'ষয়টি জানাই। পরে পারিবারিকভাবেই আমা'দের বিয়ে হয়।

এএসপি ঊর্মি আরও বলেন, সব মা-বাবাই চায় মেয়ের চেয়ে ওপরে অথবা সমপর্যায়ের কারো স'ঙ্গে বিয়ে দিতে। আমা'র পরিবারও চাইতো অন্তত আমা'র সমপর্যায়ের কাউকে যেন বিয়ে করি। কিন্তু উজ্জল পদে আমা'র জুনিয়র হলেও আমা'র পরিবার আমাকে বাধা দেয়নি। এটাতে আমা'র কোনো ম'হত্ত্ব দেখানোর ব্যাপার নেই। আমি মনে করি একজন ভালো মানুষ পাওয়া খুব জরুরি। আমি চাইলেই ক্যাডার সার্ভিসের অথবা অন্য বড় কাউকে চাইতে পারতাম। কিন্তু ভালো মানুষ তো সবখানে পাব না। আমি উজ্জলের মতো একজন ভালো মানুষ পেয়েছি।

তবে ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হওয়া নিয়ে বির'ক্তি প্রকাশ করে উজ্জল ঘোষ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি একটা ছবি আপলোড করেছি- মানুষ এটাকে যার যার মতো করে ভাইরাল করছে। আমা'র এই জনপ্রিয়তা দরকার নেই। আমা'র সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দরকার। আমি চাকরিজীবী, আমা'র একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। আমি যদি পাবলিক ফিগার 'হতাম তাহলে আমা'র ব্যাপারে সব কিছু জানার অধিকার থাকত। কিন্তু আমি তো পাবলিক ফিগার না। আমি সামান্য একজন চাকরিজীবী।

About admin

Check Also

মক্কা-মদিনায় ১০ রাকাত তারাবির নির্দেশ

করো’নাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বেই এক ভ'য়াবহ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন দেশে আগামীকাল থেকে রোজা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *