প্রেমিকের মামার শয্যাসঙ্গী হয়েও রেহাই মেলেনি কিশোরীর

তেরো বছরের কিশোরী। সবেমাত্র জেএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। মা-বাবা দুজনেই চাকরি করেন। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে বাসায় একা থাকতে হয়। নিঃস'ঙ্গতা দূর করতে প্রতিবেশীর বাসায় গিয়ে এক আপুর স'ঙ্গে সময় কা'টাতেন। ওই বাসায় আসা-যাওয়া করতেন আরেক তরুণ। কিশোরীকে দেখে ভালো লেগে যায় তার। চতুর তরুণ ও সেই আপুর চাপাচাপিতে বাধ্য হয়েই সম্পর্কে জড়ান কিশোরী।

এক বছরের মধ্যেই তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। চতুর তরুণ গো'পনে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ও বেশকিছু খোলামেলা ছবিও তুলে রাখে। তার কিছুদিন পর সে কানাডা চলে যায়। পরে সেখান থেকেই গো'পনে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি দিয়ে ব্ল্যা'কমেইলিং শুরু করে কিশোরীর স'ঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ভাইরাল ও প'র্নোগ্রাফি সাইটে আপলোড করার ভ'য় দেখিয়ে কিশোরীকে তার হাতের কব্জায় আনে। ফ্যান্টাসি করার জন্য হু’মকির মুখে প্রথমে তার মামা'র শয্যাস'ঙ্গী করে কিশোরীকে। পরে তার বন্ধু ও চাচাতো ভাইদের শয্যাস'ঙ্গী 'হতে চাপ সৃষ্টি করে। কিশোরী তার কথামতো কাজ না করাতে সেই গো'পন ভিডিও ও ছবি প'র্নোগ্রাফি সাইটে আপলোড করে দেয়।

সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত কিশোরী তার পরিবারকে সব কথা খুলে বলে। পরে পুলিশের শরণাপন্ন হলে থানায় মা'মলা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে ৮ই মা'র্চ ঢাকার পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নি'র্যাতন দমন আইন এবং প'র্নোগ্রাফি আইনে তার প্রেমিক ফাহাদ হোসেন ও তার মামা মো. সিফাতের বিরু'দ্ধে মা'মলা করেছেন।

সোমবার বিকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার স্পেশাল ক্রা'ইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রা'ইম ইনভেস্টিগেশন টিম অ'ভিযুক্ত মো. সিফাতকে গ্রে''প্ত ার করে। সিফাত ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) হোটেল ম্যানেজম্যান্ট ও ট্যুরিজমের বিভাগের শিক্ষার্থী। মা'মলার প্রধান আ'সামি প্রেমিক ফাহাদ হোসেন কানাডা থাকায় তাকে এখনই গ্রে''প্ত ার করা সম্ভব হয়নি। ফাহাদ ও সিফাত সম্পর্কে মামা-ভা'গ্নে।

ভুক্তভোগী তরুণী মানবজমিনকে বলেন, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আমা'র জেএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। বাবা-মায়ের স'ঙ্গে নতুন বাসায় উঠেছি। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন বাবা-মা আমা'র বিয়ের জন্য একটি ছেলে ঠিক করে রেখেছিলেন। ১৩ বছর বয়সে সি'দ্ধান্ত নেই আমি ওই ছেলেকে বিয়ে করবো না। কিন্তু বাবা-মা তাদের সি'দ্ধান্তে অটল ছিলেন। বাবা-মা কর্মস্থলে চলে গেলে পল্লবী থানা এলাকার ভাড়া বাসায় আমি নিঃস'ঙ্গ হয়ে যেতাম। তাই গল্প করার জন্য পাশের ফ্ল্যাটে যেতাম। ওই ফ্ল্যাটে একজন আপু থাকতেন। ওনার দূরসম্পর্কের খালাত ভাই ফাহাদ তাদের বাসায় আসা- যাওয়া করতো। আমাকে দেখে ফাহাদের ভালো লেগে যায়। আপুর মাধ্যমে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব করে। আমি রাজি হইনি। ফাহাদ হাল ছাড়েনি। আপুর মাধ্যমে আমাকে বারবার প্রস্তাব করে যাচ্ছিলো। আপু আমাকে রাজি করানোর জন্য তাদের বাসায় গেলেই কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করতেন। ফাহাদের নানা প্রশংসা করে বলতেন একবার যেনো ফাহাদের স'ঙ্গে কথা বলে দেখি। যদি ভালো লাগে পরে না হয় সম্পর্কে জড়াবো।

একসময় আমা'র আর ফাহাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিছুদিন পর ফাহাদ তার মামা'র বাসায় আমাকে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আমা'র স'ঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। ওইদিনই সে গো'পনে আমা'দের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ও ছবি তুলে রাখে। ২০১৮ সালে ফাহাদ স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডা চলে যায়। কানাডা যাব'ার সময় আমি আমা'র পরিবারকে বলেছিলাম একটা ভালো ছেলে আছে। আমা'র পরিবার রাজি হয়। কিন্তু ফাহাদ কানাডা চলে যাওয়ায় তখন বিয়ে করা সম্ভব হয়নি। কথা ছিল দু’বছর পরে দেশে এসে আমাকে বিয়ে করবে। কিন্তু সে কানাডা যাওয়ার পরপরই আমা'র ইনবক্সে কিছু ভিডিও ও ছবি পাঠায়। আমি চমকে উঠি। আমাকে বলে আমা'র ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পাসওয়ার্ড দেয়ার জন্য। আমি দিতে চাইনি। একপর্যায়ে আমাকে হু’মকি দেয়। ছবি ও ভিডিও ফেসবুক ও প'র্নোগ্রাফি সাইটে দিয়ে দেবে। এমনকি আমা'র ঘনিষ্ঠজনের কাছে পাঠাবে। তখন আমা'র ছবি ও নাম ব্যবহার করে ফাহাদ ভুয়া ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের আইডি খুলে। এসব আইডি থেকে আমা'র পরিচিতদের রিকুয়েস্ট পাঠায়। তার উদ্দেশ্য ছিল ভিডিও ও ছবি তাদের কাছে পাঠানো। পরে আমি বাধ্য হয়ে তাকে পাসওয়ার্ড দেই। পাসওয়ার্ড নিয়ে সে আমাকে বলে আমি তোমা'র ফিউচার হাজবেন্ড। দেশে এসে তোমাকে বিয়ে করবো। কিন্তু তার আগে আমা'র কিছু ফ্যান্টাসি আছে সেগু'লো তোমাকে পূরণ করতে হবে।

ফ্যান্টাসি কি জানতে চাইলে সে বলে, আমা'র মামা সিফাতের স'ঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে আর আমি সেটা ভিডিও কলে দেখে মজা নেবো। আমি তার এই কথা মেনে নিতে পারিনি। আমা'র অ’পারগতার কথা শুনে ফের ভিডিও ও ছবির হু’মকি দেয়। আমি তাকে অনুরোধ করি যাতে ভাইরাল না করে। সে যা বলবে- আমি তাই শুনবো। একপর্যায়ে আমি সিফাতের বাসায় যাই। শারীরিক সম্পর্ক করার সময় ফাহাদ কানাডা থেকে ভিডিও কলে সেই দৃশ্য দেখে স্কিন রেকর্ডার দিয়ে রেকর্ড করে রাখে। পরে সেগু'লো আবার আমা'র কাছে পাঠায়। সিফাতের স'ঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে রেহাই মিলেনি আমা'র। তারপর ফাহাদ তার চাচাত ভাই ও আরো এক বন্ধুর বাসায় যাব'ার কথা বলে। আমা'র রাগ এতে বেড়ে যায়। তার মানসিক নি'র্যাতন আর এরকম উদ্ভট আবদার আমি আর মেনে নিতে পারছিলাম না। পরে তাকে জানিয়ে দেই তার যা মনে হয় তা করার জন্য। একসময় তার কাছে থাকা আমা'র ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন প'র্নোগ্রাফি সাইটে আপলোড করে দেয়। আমা'র বন্ধু ও বান্ধবীরা সেটি দেখে আমাকে বলে কি রে তোর ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন লিংকে দেখা যাচ্ছে। উপায়ন্তর না পেয়ে বি'ষয়টি আমা'র পরিবারকে জানিয়ে মা'মলার সি'দ্ধান্ত নেই।

ডিবি’র ওয়েব বেইজড ক্রা'ইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আশরাফ উল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, সিফাতকে প্রাথমিকভাবে আমর'া জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে জানিয়েছে, ফাহাদের কথা রাখতেই ওই কিশোরীর স'ঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। ফাহাদের কাছে ছোটবেলায় সিফাত নিজেও মলেস্টিংয়ের শিকার হয়েছিল। আমর'া সিফাতের মোবাইল থেকে অনেক তরুণীর নুড ভিডিও ও ছবি পেয়েছি। অন্তত ৬ জন তরুণীর স'ঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে ভিডিও ধারণ করেছে। তিনি বলেন, বিদেশে থাকায় ফাহাদকে গ্রে''প্ত ার করা যায়নি। কিশোরীর স'ঙ্গে এই ঘটনার মূলহোতা ফাহাদ। প'র্নোগ্রাফি সাইটে কিশোরীর নুড ভিডিও দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত কমিশনার কে এম হাফিজ আক্তার মানবজমিনকে বলেন, কিশোরী মেয়েটিকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিকভাবে নি'র্যাতন করে সাইবার ব্ল্যা'কমেইলিং করা হয়েছে। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। উঠতি বয়সী মেয়েরাই বেশি শিকার হচ্ছে। কেউ জেনেশুনে আবার কেউ অসাবধানতাবশে। তাই স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েদের সতর্ক 'হতে হবে। একান্ত ছবি ও ভিডিও আ'দান-প্রদানে সাবধান 'হতে হবে। যদি মনে হয় ব্ল্যা'কমেইলের শিকার হয়ে যাব'েন তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর স'ঙ্গে এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে দুটি মা'মলা হয়েছে। একজনকে গ্রে''প্ত ার করা হয়েছে। মা'মলার ওপর আ'সামি কানাডায় আছে। তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আনার চেষ্টা করা হবে। সুত্র: মানবজমিন

About admin

Check Also

সাকিবের সঙ্গে এখন আমার কোনো যোগাযোগ নেই : মিথিলা

মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-২০২০’ বিজয়ী হয়েছেন মডেল, অ'ভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। বিজয়ের মুকুট পরার পর থেকেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *