হাঁস না মুরগির ডিম, কোনটিতে পুষ্টি বেশি!

কারও প্রিয় হাঁসের ডিম, কারও আবার মুরগির। অনেকে আবার আঁশটে গন্ধের কারণে হাঁসের ডিম মুখে তুলতে চান না। কারও আবার মুরগির ডিমে অরুচি। কিন্তু স্বা’স্থ্য স’চেতনরা বুঝে উঠতে পারেন না কোন ডিম খাবেন। হাঁসের ডিম খেলে বেশি পুষ্টি, নাকি মুরগির ডিম খেলে ঝরবে মেদ। জে’নে নিন কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর।

মুরগির ডিমের তুলনায় হাঁসের ডিম আ’কারে বড় হয়। এ ছাড়াও হাঁসের ডিমের খোলা মুরগির ডিমের তুলনায় বেশি শক্ত হয়। আ’কারে বড় হওয়ার কারণে হাঁসের ডিমের কুসুমও বড় হয়। যদিও, টাটকা ডিম খাওয়াই স্বা’স্থ্যের জন্য উপকারী।

হাঁস, মুরগি উভ’য়ের ডিমেই থিয়ামিন, নিয়াসিন, রিবোফ্লোভিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, ফোলেট, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২ ও রেটিনল থাকলেও হাঁসের ডিমে সব ভিটামিনের পরিমাণই বেশি থাকে।

পুষ্টিগু'ণ
১০০ গ্রাম হাঁসের ডিম থেকে ১৮৫ কিলো ক্যালরি এনার্জি পাওয়া যায়। যেখানে ১০০ গ্রাম মুরগির ডিম থেকে পাওয়া যায় ১৪৯ কিলো ক্যালরি এনার্জি। কার্বহাইড্রেট ও মিনারেলের পরিমাণ সমান হলেও হাঁসের ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ সামান্য বেশি থাকে। উভ’য়ের ডিমেই সেলেনিয়াম, ম্যা'ঙ্গানিজ, দস্তা, তামা, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন থাকে। তবে হাঁসের ডিমে সব কিছুরই পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে।

প্রতি ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে রয়েছে ১৮১ কিলোক্যালরি খাদ্যশ’ক্তি। আর মুরগির ডিমে আছে ১৭৩ কিলো ক্যালরি। প্রতি ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ ১৩.৫ গ্রাম এবং ১০০ গ্রাম মুরগির ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ ১৩.৩ গ্রাম ৷ হাঁসের ডিমের ফ্যাট থাকে ১৩.৭ গ্রাম, মুরগির ডিমে থাকে ১৩.৩ গ্রাম।

আবার মুরগির ডিমে ক্যালসিয়াম রয়েছে ৬০ মিলিগ্রাম, লোহা রয়েছে ২.১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ রয়েছে ২৯৯ মাইক্রো’গ্রাম। অন্যদিকে, ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে ক্যালসিয়াম ৭০ মিলিগ্রাম, লোহা ৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৬৯ মাইক্রো’গ্রাম থাকে। যে কারণে হাঁসের ডিম ৬ স'প্ত াহ পর্যন্ত খাওয়া যেতে পারে। তাই যদি বেশি কুসুম খেতে চান বা আপনার শ’রীরে বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন হয় তাহলে হাঁসের ডিম খান।

ফ্যাট
১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ ৩.৬৮ গ্রাম, ১০০ গ্রাম চিকেনে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ ৩.১ গ্রাম। হাঁসের ডিমে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ মুরগির ডিমের থেকে ৫০ শতাংশ বেশি।

অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণও হাঁসের ডিমে বেশি হলেও থ্রিওনিন, আইসোলিউসিন, ট্রিপটোফ্যান, লিউসিন, মিথিওনিন, লাইসিন, কিস্টিন, টাইরোসিন, ফেনিলালানিন, ভ্যালাইন, সেরিন, গ্লাইসিন, প্রোলিন, অ্যাসপারটিক অ্যাসিড, হিস্টিডিন, অ্যালানিন ও আর্জিনিন সব ধ’রনের অ্যামাইনো অ্যাসিডই মজুত মুরগির ডিমেও।

কোলেস্টেরল
হাঁসের ডিম বেশি পুষ্টিকর হলেও এই ডিমে কোলেস্টেরলের পরিমাণও বেশি থাকে। ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে যেখানে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ৮৮৪ মিলিগ্রাম, ১০০ গ্রাম মুরগির ডিমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ৪২৫ মিলিগ্রাম।

তাই হার্টের স’মস্যা থাকলে অবশ্যই দূ’রে থাকুন হাঁসের ডিম থেকে। যারা হাই প্রোটিন ডায়েট মেনে চলতে চান তারা কুসুম ছাড়া হাঁসের ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সামান্য পরিমাণে হলেও মুরগির থেকে হাঁসের ডিমেই পুষ্টিগু'ণ বেশি রয়েছে।

About admin

Check Also

মক্কা-মদিনায় ১০ রাকাত তারাবির নির্দেশ

করো’নাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বেই এক ভ'য়াবহ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন দেশে আগামীকাল থেকে রোজা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *