সেই মাহবুব কবীর মিলনকে শাস্তি দিয়েছে সরকার

‘তিন মাসে দুর্নীতি দূর করতে ১০ কর্মক'র্তার উইং চান অতিরিক্ত সচিব’ – রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রা'প্ত কর্মক'র্তা (ওএসডি) মো. মাহবুব কবীর মিলনের উ'দ্ধৃতি দিয়ে এ খবর প্রকাশ করে দেশের একটি অনলাইন গণমাধ্যম।

দুর্নীতি দূর করার এমন ইচ্ছেই কাল হলো তার। এ বক্তব্যের জন্য প্রথমে ওএসডি হন তিনি। এরপর তার বিরু'দ্ধে বিভাগীয় মা'মলা হয়। সেই মা'মলায় দ'ণ্ড হিসাবে এবার তাকে ‘তিরস্কার’ করেছে সরকার।

গত ১ মা'র্চ জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন স্বাক্ষরিত এ সংক্রা'ন্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ওই প্রতিবেদনে দেওয়া বক্তব্যে মো. মাহবুব কবীর মিলন বলেন, ‘আমি যদি প্রধানমন্ত্রীকে পেতাম তবে বলতাম, স্যার আমাকে ১০ জন অফিসার দেন। এদের আমি চুজ করব, এদের নিয়ে আমি একটা উইং করব। মানুষের চোখের পানি দূর করার জন্য সব মন্ত্রণালয়, সব দফতর, সব অধিদফতরের বি'ষয়গু'লো অ্যাড্রেস করব আমর'া ১০ জন।’

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি বলে আমর'া দুর্নীতি দূর করতে পারব না, কেউ যদি বলে সিন্ডিকেট ভাঙা যায় না, আমি ওটারই চ্যালেঞ্জ দিয়েছি— আমা'র তিন মাস সময়ই যথেষ্ট, যেকোনো ডিপার্টমেন্টের সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য। এনাফ টাইম। দেশের অনেক ডেভেলপমেন্ট আনা যাব'ে, অনেক পরিবর্তন আনা যাব'ে। পারা যায়, আমর'া পারবই। করতে না পারলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। এটা আমা'র খুব ইচ্ছা।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমা'দের স্বাধীনতা দিতে হবে, জবাবদিহিতা থাকবে একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে। অন্য কারও কাছে নয়। কেন এই কথাটা বলছি- নানা পারিপার্শ্বিকতা আমা'দের কাজ করতে দেয় না। নানা কারণে করতে দেওয়া হয় না। সেখানে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, সেখানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।’

এমন বক্তব্যের পর গত ৬ আগস্ট রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের পদ থেকে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রা'প্ত কর্মক'র্তা (ওএসডি) করা হয়। ওই সময় বি'ষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় প্রবল আলোচনা। তবে এর তোয়াক্কা না করে তার বিরু'দ্ধে বিভাগীয় মা'মলা করা হয়। সেই মা'মলায় শাস্তি পেলেন আলোচিত এ কর্মক'র্তা।

১ মা'র্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রা'প্ত কর্মক'র্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহবুব কবীরের উ'দ্ধৃতি দিয়ে গত ২৯ জুলাই জাগো নিউজ নামের অনলাইন পত্রিকায় ‘তিন মাসে দুর্নীতি দূর করতে ১০ কর্মক'র্তার উইং চান অতিরিক্ত সচিব’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। যথাযথ ক'র্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত ও প্রকৃত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র ব্যতীত পত্রিকায় প্রকাশিত এ লেখায় তার মনগড়া, ভিত্তিহীন ও সরকারের জন্য অস্বস্তিকর বক্তব্য প্রকাশিত হওয়া সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার আচরণবিধি ল'ঙ্ঘনের শামিল হওয়ায় এবং তিনি সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদের কর্মক'র্তা বিধায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তার বিরু'দ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের অ'ভিযোগে বিভাগীয় মা'মলা রুজু করা হয়।’

এতে বলা হয়, ‘অ'ভিযুক্ত কর্মক'র্তার বিরু'দ্ধে রুজু করা বিভাগীয় মা'মলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৫ নভেম্বর তারিখের ১৮৭ নম্বর সড়কে অ'ভিযোগনামা ও অ'ভিযোগ বিবরণী পাঠানোর মাধ্যমে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হলে তিনি ১৫ নভেম্বর লিখিত জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানি প্রার্থনা করেন। বিভাগীয় মা'মলায় গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ব্যক্তিগত শুনানিতে মা'মলার অ'ভিযোগ, উভ'য় পক্ষের বক্তব্য, দাখিল করা কাগজপত্র ও প্রাস'ঙ্গিক সকল বি'ষয়ে পর্যালোচনায় অ'ভিযুক্ত কর্মক'র্তার বিরু'দ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের অ'ভিযোগ প্রমাণিত হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আগে বাংলাদেশ নিরাপ'দ খাদ্য ক'র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছিলেন মাহবুব কবীর মিলন। এ পদে থাকার সময় হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সর্বত্র ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে জোরালো ভূমিকা রেখে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।

মাত্রাতিরিক্ত বি'ষাক্ত ফরমালিন ব্যবহারের বিরু'দ্ধেও বেশ কিছু পদ'ক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। সেসব পদ'ক্ষেপ ওই সময় প্রশংসা কুড়িয়েছিল। পাশাপাশি, খাদ্যমান পরীক্ষার নানা ধরনের আজগু'বি দাবি করে প্রক্রিয়াজাত খাবারের লেভেলিং এবং বিজ্ঞাপন তৈরির পথ বন্ধেও মাহবুব কবীর মিলনের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

২০২০ সালের ২৫ মা'র্চ বাংলাদেশ নিরাপ'দ খাদ্য ক'র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। সে পদে বেশি দিন থাকতে পারেননি তিনি। ওএসডি হওয়ার পর এবার লঘুদ'ণ্ড পেলেন সাধারণ মানুষের কাছে ‘সৎ’ হিসেবে পরিচিত আলোচিত এ কর্মক'র্তা। সুত্র: ঢাকাপোস্ট

About admin

Check Also

খেলতে যাই

খেলতে যাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *